যুক্তরাষ্ট্রে কি ঘটতে যাচ্ছে ২০ জানুয়ারি!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২শ বছরের ইতিহাসে যা হয়নি ট্রাম্প সমর্থকরা তাই করে দেখিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলের ৬ জানুয়ারি সহিংসতায় প্রাণ গেছেন ৫ আমেরিকানের। এমনকি খোদ ট্রাম্পই স্মরণকালের মধ্যে প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে শুভেচ্ছা জানাননি। তারওপর তিনিই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে কি না প্রতিনিধি পরিষদে দুইবার অভিশংসিত হয়েছেন। সবকিছু মিলিয়ে ট্রাম্পকে নিয়ে এখন ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে মার্কিন মুল্লুকের কোটি জনতার।
২০ জানুয়ারি ইলেক্ট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের শপথ নেওয়ার দিন। এই দিনটিকে আমেরিকানরা বলেন, অভিষেদ দিবস। নিয়ম অনুযায়ী সারা বিশ্বের বাঘা বাঘা রাজনীতিবীদরা অংশ নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর শপথ অনুষ্ঠানে। কিন্তু করোনা মহামারীর কারনে এবারের শপথ অনুষ্ঠানের আকার একেবারেই সীমিত করে ফেলেছে বাইডেন প্রশাসনের অভিষেক অনুষ্ঠান কমিটি। তারওপর পুরো ওয়াশিংটন জুড়ে সেনাবাহিনী এবং ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের মহড়ায় ত্রাহী অবস্থা। যা মোটামুটি এক ধরনের যুদ্ধাবস্থা। কারন ৬ জানুয়ারির পর উগ্র ট্রাম্প সমর্থকরা আগেই হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ২০ জানুয়ারি তারা সারা আমেরিকাজুড়ে স্বশস্ত্র বিক্ষোভ করবেন। ইতিমধ্যে ১৭ জানুয়ারি তারাই সেই বিক্ষোভের মহড়াও সম্পন্ন করেছেন।
তাহলে কি বাইডেনের শপথের দিন আবারো বড় ধরনের গোলোযোগ হতে পারে! শঙ্কাটা একেবারেইে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। হাজার কিলোমিটার দূরে বসে এই ধারনা আরো পাকাপোক্ত হয় যখন খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন বা এফবিআই একই শঙ্কা প্রকাশ করে। তাছাড়া সেখানকার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও একই ধারনা করছেন যে, বাইডেনের শপথের আগেই তার হোয়াইট হাউজ ছেড়ে ফ্লোরিডায় চলে যাওয়া ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একেবারেই নিরব ট্রাম্প। এমনকি দ্বিতীয়বারের মত অভিশংসিত হওয়ার পর তা নিয়ে কোনো বিরুপ মন্তব্যও করেননি তিনি। তবে আগেই বলে রেখেছেন, তাকে অভিশংসন করা হলে খারাপই হবে।
দেখার অপেক্ষা কি হয় ২০ জানুয়ারি বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে!