ইরানের বিরুদ্ধে ইউরোপের নতুন অ্যাকশন
ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অজুহাতে ইরানের তিনটি প্রতিষ্ঠানসহ আট নাগরিকের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থেকে শুরু করে তাদের সমস্ত সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী বছর ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অজুহাতে ইরানের তিনটি প্রতিষ্ঠানসহ আট নাগরিকের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থেকে শুরু করে তাদের সমস্ত সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী বছর ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে।
যেসব ব্যক্তির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তার মধ্যে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি রয়েছেন। এ ছাড়া অপর তিন প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ এভিন জেলখানা, ফাশাফাভিয়ে জেলখানা এবং রাজাঈ জেলখানার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, ২০১১ সালে প্রথম তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপ নেয়া হয় এবং প্রতি বছর তা নবায়ন করা হয়। বর্তমানে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ইরানের মোট ৮৯ ব্যক্তি ও চারটি প্রতিষ্ঠানকে ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পরমাণু বিষয়ে যখন ইউরোপ ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে ঠিক তখন তেহরানের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থেকে বোঝা যায় ইরানের ব্যাপারে পাশ্চাত্য বিশ্ব সমন্বিত নীতি গ্রহণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় এসে সবার সঙ্গে ফের সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় তিনি আগ্রহ দেখানোর পর ইউরোপীয়রা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব ও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিরোধিতা করার পাশাপাশি পরমাণু সমঝোতাসহ ইরান সম্পর্কিত প্রতিটি বিষয়ে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রকাশ্যে সমন্বিত নীতি গ্রহণ করে চলছে।
গত তিন মাস ধরে ইরানের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের সঙ্গে যে আলোচনা চলছে তাতে ইউরোপ ভাল পুলিশ ও খারাপ পুলিশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তারা একদিকে পরমাণু সমঝোতা রক্ষার দাবি করছে অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে স্বেচ্ছাচারী ও মোড়লিসূলভ আচরণ করছে এবং হুমকি দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিশনের সাবেক প্রধান ক্যাটরিন অ্যাস্টোন বলেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে অবশ্যই আগে পরমাণু সমঝোতা মেনে চলতে হবে এবং ২০১৫ সালে যে সমঝোতা হয়েছে সেটাই যে শেষ আলোচনা এমনটি কথা ছিল না’।
বাস্তবতা হচ্ছে, পরমাণু সমঝোতায় অবশিষ্ট দেশগুলো মার্কিন সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে নিয়ে তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার জন্য চাপ দিচ্ছে। যদিও ইরান ওই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ইউরোপ এমন সময় ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল যখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর সময়ে পরমাণু সমঝোতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। কেননা পরমাণু সমঝোতায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ আগামী বুধবার ভিয়েনায় ফের বৈঠকে বসার বিষয়ে একমত হয়েছিল। এ ছাড়া, তারা দু’টি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করেছিল যারা ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং পরমাণু সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাবে বলে কথা ছিল।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তেলআবিব সফরের পরপরই ইরানের নাথাঞ্জ পরমাণু বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্রে ইসরাইলের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইউরোপের নিষেধাজ্ঞার ঘটনা থেকে বোঝা যায়, ইরানের বিরুদ্ধে তেলআবিব, ব্রাসেলস ও ওয়াশিংটন একজোট হয়ে যৌথ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এটা বোঝা উচিত নাশকতা করে কিংবা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তাদের কোনো লাভ হবে না।
প্রকৌশল নিউজ/এমএস