আঘাত এসেছে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : হানিফ

সরকারের পাশে থেকে সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ। তিনি বলেন আঘাত এসেছে, প্রতিঘাত করা হবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এসময় বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজত মিলে ধর্মের নামে সারাদেশে জ্বালাও-পোড়াও-ভাঙচুর করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আঘাত এসেছে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : হানিফ

সরকারের পাশে থেকে সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ। তিনি বলেন আঘাত এসেছে, প্রতিঘাত করা হবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এসময় বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজত মিলে ধর্মের নামে সারাদেশে জ্বালাও-পোড়াও-ভাঙচুর করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত আওয়ামী লীগ অফিস, যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘর পরিদর্শন শেষে মাহবুবুল আলম হানিফ এসব কথা বলেন।

ধর্মের নামে হেফাজত অধর্মের কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন হানিফ। তিনি বলেন, ‘রিসোর্টে নারী নিয়ে ধরা পড়েছে হেফাজতের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হক।’

এসময় মামুনুল হককে রিসোর্ট থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীরা যেভাবে আওয়ামী লীগ অফিস এবং যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে ভাঙচুর করেছে তার নিন্দা জানান।

মাহবুবুল আলম হানিফ ক্ষতিগ্রস্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মামলা করার নির্দেশ দেন। একইসাথে হেফাজত-বিএনপি ও জামায়াতের যেসব সন্ত্রাসীরা এসব ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও করেছে তাদের সুনির্দিষ্ট নাম ঠিকানা সংগ্রহ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে নিয়ে আসামি করার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, যেসব ধর্ম ব্যবসায়ী ধর্মের নামে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করবো। এসব ধর্ম ব্যবসায়ীরা ধর্মের নাম করে অধর্মের কাজ করছে। এসব ব্যবসায়ীদের হাত থেকে ধর্মকে রক্ষা করতে হবে। এই ধর্ম ব্যবসার দোহাই দিয়ে যারা ভাঙচুর করেছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে এই করোনাকালে দুর্যোগের সময় মাস্ক পরে মানুষকে সহায়তা করার আহবান জানান। আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করা মানে সব নেতাকর্মীর বাড়িঘরে হামলা করা, যারা এই কাজ করেছে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।

পরে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হেফাজতের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সেনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের মোগড়াপারা চৌরাস্তা প্রধান কার্যালয়, সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি রফিকূল ইসলাম নান্নুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়ি ও তার শ্বশুরবাড়ি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ রনির বাড়ি পরিদর্শন করেন।

আওয়ামীলীগের প্রতিনিধি দলে ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিন নাসিম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মৃনাল কান্তি দাস, সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, নজরুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক সামসুল ইসলাম ভুইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, ডা. আবু জাফর চৌধুরি বিরু, ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দিঘীরপার এলাকায় অবস্থিত রয়্যাল রির্সোটে কথিত স্ত্রীকে নিয়ে ওঠেন হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরের মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সম্পাদক মামুনুল হক। এই ঘটনায় তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হলে খবর পেয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে রিসোর্টে ভাঙচুর চালিয়ে মামুনুল হককে ছাড়িয়ে নেন। পরে তারা আওয়ামী লীগের কার্যালয়, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতারকর্মীদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর করেন।